পটুয়াখালীতে ১৭ লাখ টাকায় অধ্যক্ষ নিয়োগ, ১০টার পরীক্ষা ১১টায়

অনলাইন ডেস্ক :: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার খেপুপাড়া নেছারুদ্দীন ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যসহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ নিয়ে গত মঙ্গলবার (০৩ ডিসেম্বর) মাদরাসা অধিদপ্তরের ডিজি বরাবর অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, সম্প্রতি খেপুপাড়া নেছারুদ্দীন ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ও লাইব্রেরিয়ান নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। গত ৩০ নভেম্বর সকাল ১০টায় ওই নিয়োগ পরীক্ষা নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু লিখিত পরীক্ষা শুরু হয় বেলা সোয়া ১১টায়।

ওই দিন সকাল ১০টায় প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে তা ফটোকপি করার জন্য পাঠালে মোবাইলে ছবি তুলে নেয় মাদরাসার সভাপতি এমপি মহিবুুুর রহমান মুহিবের লোকজন। পরে মাদরাসা মসজিদের ভেতরে বসে ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট অনুশীলন করানো হয় সদ্য নিয়োগ পাওয়া অধ্যক্ষ মাওলানা মো. নাসির উদ্দিনকে। তাই ১০টার পরীক্ষা সোয়া ১১টায় নেয়া হয়।

একইভাবে লাইব্রেরিয়ান নিয়োগে উত্তীর্ণকেও অনুশীলন করানো হয়। পরে পরীক্ষা নেয়া হয়। ফলে পূর্বনির্ধারিত প্রার্থী ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় পাস করেননি। নির্বাচিত ব্যক্তি হিসেবে নাসিরকে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেয়া হয়, যা পূর্বপরিকল্পিত। কারণ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মো. আবদুর রাজ্জাক, মো. জসিম উদ্দিন ও মো. নজির আহমেদের আবেদন এবং ব্যাংক ড্রাফট কলাপাড়া সোনালী ব্যাংক থেকে করা। তাদের বাড়ি একেকজনের একেক এলাকায় হলেও তিন প্রার্থী একই দিন একই ব্যাংকে পর পর ব্যাংক ড্রাফট করেন। এতেই প্রমাণিত হয় মূলত নাসির উদ্দিনের সহযোগিতায় এ আবেদন করেছিলেন তারা।

নিয়োগ বিধিতে বলা আছে, কোনো ব্যক্তি এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে যোগদান করার আগে পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠান থেকে ছাড়পত্র নিতে হবে। কিন্তু নাসির উদ্দিন ১ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় অধ্যক্ষ পদে যোগ দিয়েছেন। পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠান থেকে নাসির উদ্দিন ছাড়পত্র নেননি। যেদিন নির্বাচন তার পরদিন যোগদান, যা প্রমাণ করে তিনি দুর্নীতি করেছেন।

অভিযোগকারী মো. আবদুস শাকুর বলেন, খেপুপাড়া ফাজিল মাদরাসায় অধ্যক্ষ নিয়োগের পেছনে ১৭ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্য হয়েছে। ১৭ লাখ টাকার মধ্যে বোর্ডের সভাপতি ও মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মহিবুর রহমান মুহিব এমপি পেয়েছেন ১০ লাখ। বাকি টাকা বোর্ডের অন্য সদস্যরা পেয়েছেন। একজন অধ্যক্ষ যদি দুর্নীতি করে নিয়োগ পান তাহলে তার কাছ থেকে শিক্ষার্থীরা কি শিখবে? আমি চাই তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

এসব বিষয়ে সদ্য নিয়োগ পাওয়া অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। আমি কোনো টাকা লেনদেন করিনি। নিয়োগ বৈধভাবেই হয়েছে আমার।

এ বিষয়ে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব আবদুল কাইয়ুমের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও রিসিভ করেননি তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*